Bio: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক। তিনি হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্যের কারণে নিয়মিত শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি, তবে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর রচনায় সমাজের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জীবন প্রতিফলিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হলো শ্রীকান্ত, দেবদাস, পরিণীতা, চরিত্রহীন, পথের দাবী ইত্যাদি। সহজ ভাষা ও মানবিক সংবেদনশীলতা তাঁর সাহিত্যকে কালজয়ী করে তুলেছে। ১৯৩৮ সালে তিনি প্রয়াত হন। তাঁর সাহিত্য আজও পাঠকহৃদয়ে সমান জনপ্রিয়।
Explore the amazing stories and works of Sarat Chandra Chattopadhyay. Listen to the captivating tales and experiences shared by the author.
কেষ্টা অল্প বয়সে মা হারিয়ে একা হয়ে যায়। একমাত্র ভরসা বৈমাত্র বড়ো বোন কাদম্বিনী। ভিক্ষা করে মায়ের শ্রাদ্ধ শেষে ছোট একটা পুঁটলি নিয়ে সে কাদম্বিনীর বাসায় গিয়ে উপস্থিত হয়। একটি চাকরকে বিদায়ের পরিবর্তে আশ্রয় হয় কেষ্টার বোনের বাড়িতে। পরিমাণে একটু ভাত খাওয়ার অপরাধে কেষ্টাকে শুনতে হয় হাজার কটুকথা। ছোট্ট এই মন এত কষ্টের বিনিময়ে খোঁজে একটু ভালোবাসা। নিজ বোনের পরিবর্তে এই ভালোবাসাটুকু পায় সে কাদম্বিনীর জা হেমাঙ্গিনীর কাছে। কেষ্টার প্রতি হেমাঙ্গিনীর এই মাতৃস্নেহ, ভালোবাসার কারণেই সে নিজেও হয়ে ওঠে সকলের চক্ষুশূল। এভাবেই বিভিন্ন ঘটনার মাঝে এগিয়ে গেছে উপন্যাসের পটভূমি।
Listen Now
গফুর নামে এক গরীব মুসলিমের মহেশ নামক এক গরু ছিল। তাদের দুজনের মধ্যে পিতা পুত্রের সম্পর্ক বর্তমান ছিল।কিন্তু গফুর খুব গরীব ও পর পর দু বছর খরা হবার দরূন সে সহায় সম্বলহীন। উপরন্তু, যা একটু খড় সে নিজের জমি থেকে পেয়েছিল তার পুরোটাই জমিদার বাজেয়াপ্ত করেছেন। এমতাবস্থায় তাদের বাপ বেটির কোনো রকমে দিনপাত হলেও তাদের পোষ্য মহেশের জন্য আর কিছুই থাকে না ফলে সে লোকের জমিতে ঢুকে তাদের ফসল নষ্ট করতে থাকে। এবং তার দাম দিতে হয় গফুর কে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গফুর স্বপ্নেও কোনোদিন মহেশ কে গো হাটায় বেচতে চায় নি। ঠিক যেভাবে সে কোনোভাবেই চটকলে কাজ করতেও চায়নি কারন সেখানে মেয়েদের সম্মান থাকে না। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে সে তাই করতে বাধ্য হয়।
Listen Now
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রশংসিত কাজ অনুরাধা, সাহিত্যের সেরা সময়ের নতুন গল্প, অনুরাধা একটি ক্ষয়িষ্ণু পরিবারের অবিবাহিতা মহিলার গল্প বলে | যে তার পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করার পরিবর্তে তিনি তাদের মুখোমুখি হন | যখন তার পরিবারের সম্পত্তি একজন জমিদারের কাছে স্থানান্তরিত হয় , তখন তার ছেলে বিজয় অনুরাধাকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করে| কিন্তু তার একমাত্র ছেলে কুমারের প্রতি অনুরাধার স্নেহ, শহরের একজন শিক্ষিতা মহিলা অনিতাকে বিয়ে করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিজয় ধীরে ধীরে তার প্রেমে পড়ে যায়| এই গল্পটি প্রেম, আনুগত্য এবং পারিবারিক বন্ধনের জটিলতা গুলি অন্বেষণ করে |
Listen Now
এই গল্পটি ১৩০৯ বঙ্গাব্দে (১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ) একটি সাহিত্য স্মরণিকা "কুন্তলীন পুস্তিকামালা"-য় প্রকাশ পায়। গল্পটি ১৩০৯ বঙ্গাব্দে (১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ) "কুন্তলীন পুরস্কার"-প্রাপ্ত। গল্পটি তাঁর সম্পর্কীয় মাতুল (মামা) ও বাল্যবন্ধু শ্রীসুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে প্রকাশিত। "বসুমতী" পত্রিকার সম্পাদক দেড়শ'টি গল্পের মধ্যে "মন্দির" গল্পটিকে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করেন। [গল্পের বিষয়বস্তু : অমরনাথ অপর্ণাকে বিবাহ করেও দাম্পত্য জীবনে শান্তিলাভ করতে পারেনি। অপর্ণা পিতৃগৃহে স্থাপিত রাধাকৃষ্ণের চরণে নিজেকে উৎসর্গীকৃত করেছেন অনেক আগে। উল্লেখযোগ্য চরিত্র : 'অমরনাথ', 'অপর্ণা' প্রমুখ।]
Listen Now
"পণ্ডিত মশাই" শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এক সংবেদনশীল গল্প, যেখানে এক নিঃস্বার্থ, আদর্শবাদী মানুষের জীবনচরিত তুলে ধরা হয়েছে। তিনি গ্রামে বসবাস করে দরিদ্র ছাত্রদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেন, কখনও কোনো পারিশ্রমিক চান না। তাঁর সহজ-সরল জীবন, আত্মত্যাগ, আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সমাজের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। গল্পটি পাঠকদের মনে সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা এবং আদর্শের প্রতি গভীর উপলব্ধি জাগিয়ে তোলে
Listen Now
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী গল্প বিন্দুর ছেলে এক অনবদ্য কাহিনি—যেখানে সংসারের টানাপোড়েন, সম্পর্কের দ্বন্দ্ব আর মানবিকতার সত্য একসূত্রে গাঁথা। অন্নপূর্ণার দৃঢ়তা, বিন্দুর বেদনা আর অমূল্যর বেড়ে ওঠা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে দুঃখ-আশা-ভালোবাসার চিরন্তন ছবি। প্রতিটি শব্দ আপনাকে ভাবাবে, প্রতিটি মুহূর্ত ছুঁয়ে যাবে হৃদয়। শুনুন এই অডিও গল্পে জীবনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
Listen Now