Bio: প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় (১৮৭৩-১৯৩২) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ। তিনি মূলত ঐতিহাসিক গল্প ও উপন্যাস রচনার জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা সাহিত্যে ইতিহাসভিত্তিক কাহিনির প্রচলনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে কেদার রাজা, রাণীর বাঁশি, নবকুমার প্রভৃতি। বাংলা গদ্যের উৎকর্ষ সাধনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গবেষণামূলক রচনায়ও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
Explore the amazing stories and works of Pravat Kumar Mukhopadhyay. Listen to the captivating tales and experiences shared by the author.
প্রভাত-সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রত্ন 'দেবী' গল্পটি। গল্পটির পরিকল্পনায় লেখক রবীন্দ্রনাথের কাছে ঋণী। শ্বশুর কালীকিঙ্করের স্বপ্নাদেশের বিশ্বাসে মানবী দয়াময়ীর দেবীত্বে রূপায়ণ হয়। অবশেষে দেবীর আত্মহত্যায় কাহিনীর যবনিকাপাত ঘটে। এই গল্প অশ্রুভারাতুর মানবরসে হৃদয়গ্রাহী। এখানে যে কোন মহৎ ছোটগল্পের মতো শুধু দশচক্রে মোহগ্রস্ত একটি নারীর ভয়াবহ পরিসমাপ্তিই দেখানো হয়নি, এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথের ‘ধর্মের সঙ্গে ধর্মতন্ত্রের’ বিরোধে প্রাণের বিনাশ ঘটার সতর্ক উপদেশও মূর্ত হয়েছে।গল্পের উপজীব্য বিষয় হলো হিন্দু অবতারবাদের ভেতরের অমানবিক ও অবৈজ্ঞানিক চেহারার উদ্ঘাটন এবং তার সর্বনাশা ভয়ঙ্কর দেওলিয়াপনার দিকটি খোলসা করা।
Listen Now
বৈঠকখানার ঘড়িতে চারটে বাজিবা মাত্র দিদিমার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল | তিনি বিছানার উপর বসিয়া বলিলেন "দুর্গা দুর্গা দুর্গা"| পাশে বিধবা না তিনি সুরবালা ঘুমাইতেছে, তাহাকে ডাকিলেন,““সুরি ও সুরি ওঠ, আজ যে অমাবস্যে।”
Listen Now
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘রসময়ীর রসিকতা’ গল্পটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৩১৬ বঙ্গাব্দে ‘প্রবাসী’ পত্রিকার পৌষ সংখ্যায়, এই গল্পটির মোট পরিচ্ছেদ সংখ্যা আটটি। কাহিনি ধীরে ধীরে পরিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জটিল আকার ধারণ করেছে। শেষ পর্যন্ত শিল্পপ্রকরণে ভৌতিকরসে আপ্লুত হয়ে পারিবারিক সম্পর্ক ভাবনার মজায় পরিণত হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর তীব্র বিরোধ, সাংসারিক পারস্পরিক বিবাদের কথা মনে রেখে স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামীর বিড়ম্বিত, দুর্ভোগের জীবন চিত্র অঙ্কন। এই গল্পে কোনও গভীর জটিল মনস্তত্ত্ব নেই। মৃত বা জীবিত চরিত্রের আত্ম উম্মোচনের কোনও প্রয়াস এতে নেই। নিছক সম্পর্ক নিয়ে খেলা গল্পের কেন্দ্রীয় ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। এখানেই এই গল্পের শিল্প সার্থকতা।
Listen Now
আমি বলিলাম না। সে কি হয়? আমি ছাড়িলেও, আমার স্ত্রী ছাড়িবেন কেন?" হেনরি প্রকটি বিস্তার করিয়া বলিল-"বেশ! মনে নাই? তিনি ত গিরিবালাকে আমায় দান করিয়াছেন।"
Listen Now
প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘বাপ কি বেটি’ গল্পে এক অসাধারণ পিতৃস্নেহ ও মানবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। গল্পে এক ব্যক্তি তাঁর বন্ধুর মেয়েকে নিজের মেয়ের মতো করে কাছে নিয়ে আসেন এবং গভীর মমতা, স্নেহ ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তাকে লালন-পালন করেন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালোবাসা ও যত্নের মাধ্যমে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর পিতা-কন্যার সম্পর্ক। নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে তিনি মেয়েটির ভবিষ্যৎ ও সুখের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকেন। গল্পটি প্রমাণ করে, প্রকৃত পিতৃত্ব শুধু রক্তের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ভালোবাসা, ত্যাগ, দায়িত্ব ও মমতাই একজন মানুষকে প্রকৃত পিতা করে তোলে।
Listen Now
প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়-এর ‘বৌ চুরি’ গল্পে এক নববধূকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক অদ্ভুত ভুল বোঝাবুঝির কাহিনি ফুটে উঠেছে। বিয়ের পর আকস্মিক ঘটনায় সবাই মনে করে বধূকে চুরি করা হয়েছে। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি, উদ্বেগ, সন্দেহ এবং একের পর এক হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতি। ঘটনার মোড়ে মানুষের সরলতা, সামাজিক রীতি এবং তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সত্য প্রকাশ পেলে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। রস, কৌতুক ও চমকপূর্ণ পরিণতিতে সমৃদ্ধ এই গল্পটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক রসগল্প।
Listen Now